g আইন জটিলতায় আটকে গেছে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ইউনিটের নির্মান কাজ | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শনিবার, ৫ই আগস্ট, ২০১৭ ইং ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আইন জটিলতায় আটকে গেছে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ইউনিটের নির্মান কাজ

AmaderBrahmanbaria.COM
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৪

---

ASUGANJ-TAP-BIDUTনির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে না আসার আশংকা দেখা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি বিদ্যুৎ ইউনিটের। আইন জটিলতায় আটকে গেছে ৪টি ইউনিটের প্রকল্পের নির্মান কাজ। প্রকল্পগুলো উৎপাদনে না আসতে পারলে ব্যয় বাড়ার আশংকাও রয়েছে। জানা যায়, আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প¬্যান্ট (সাউথ), ৩৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প¬্যান্ট (নর্থ), ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন সাইকেল পাওয়ার প¬্যান্ট ও ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২০০ মেগাওয়াট মডিউলার পাওয়ার প¬্যান্টের প্রায় ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন ৪টি ইউনিটের কাজ শুরু হয়। এরমধ্যে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন সাইকেল পাওয়ার প¬্যান্টের একটি অংশ এ বছরের অক্টোবর মাসে ১৪৩ মেগাওয়াট উৎপাদন আসার কথা রয়েছে এবং ২০১৫ সালের জুনে ৬’শ ৫৭ মেগাওয়াট ও ২০১৬ সালের জুনে আরো ৪’শ মেগাওয়াট উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। এসব ইউনিটের ভারী যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য মেঘনা নদীতে নির্মাণাধীন মুড়িং টার্মিনাল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়ে সংশি¬ষ্ট কতৃপর্ক্ষ। চলতি মাসের মধ্যে টার্মিনাল নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা অবসান না হলে আশুগঞ্জ ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প হুমকির মধ্যে পড়বে । বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০১৭ সালের মধ্যে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে। আশুগঞ্জ তাপর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতা ৪টি বৃহৎ ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু করে। এর জন্য র্জামান থেকে ২টি গ্যাস টারবাইন এবং ২টি ষ্টিম টারবাইন ও ১টি জেনারেটর আমদানি করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি মেশিন পরিবহনের জন্য বিকল্প কোন পথ না থাকায় নদী পথে পরিবহন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অক্টোবর মাসে যে ইউনিটটি উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে সেটির একটি গ্যাস টারবাইন মেশিন জার্মান থেকে মংলা বন্দরে পৌছেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে জাহাজ মেশিনটি নিয়ে আশুগঞ্জ মেঘনা নদীতে নোঙ্গর করার কথা। নির্ধারিত সময়ে এসব মালামাল আনলোড করা না যায় একদিকে যেমন কাজের সময় বৃদ্ধি পাবে এবং জাহাজ কোম্পানীকেও দিতে হবে অতিরিক্ত মাসুল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জেটির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৮০ হওয়ায় ৩৮৫ টন গ্যাস টারবাইন জেনারেটর আনলোড করার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি মুড়িং টার্মিনাল নির্মাণ শুরু করে কতৃপর্ক্ষ। নৌ মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি নিয়ে অস্থায়ী মুড়িং টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনভেয়ার লজিস্টিক লিমিটেডকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সাব কন্ট্রাক্টর হিসাবে আশুগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস ছফি উল¬াহ এন্টারপ্রাইজ নির্মাণ কাজ শুরু করে। নদীর ঘাট ইজারাদারের আপত্তির কারণে গনমাধ্যমে মেঘনা নদী দখল করে জেটি নির্মাণ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর সূত্র ধরে গত ১১ ফেব্র“য়ারী হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ এর পক্ষে এডভোকেট মনজিল মোর্শেদ হাইর্কোটে রিট আবেদন করে। আবেদনটি হাইকোর্ট অস্থায়ী জেটি নির্মাণ স্থগিত আদেশ দেন এবং ২ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেয়ার ১০ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। এরফলে অস্থায়ী টার্মিনাল নির্র্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকোশলী মোঃ নুরুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ উৎপাদনে মহাপরিকল্পনা অংশ হিসেবে এসব ইউনিটের বাস্তবায়ন কাজ চলছে। নতুন ৪টি ইউনিটের জন্য টার্বোজেনারেটরগুলো পরিবহনের জন্য মেঘনা নদীতে অস্থায়ী মুড়িং টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছিল। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। বিআইডবি¬উটি‘র যুগ্ন পরিচালক মোঃ মঞ্জুর কাদের জানান, বিদ্যুৎ জাতীয় বিষয় হওয়ায় অস্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল পরিবহন শেষ হলে তারা নিজ খরচে নদীর ঘাট পরিষ্কার করে দিবে এ শর্তে অনুমোদন দেয়া হয়। 

এ জাতীয় আরও খবর