মঙ্গলবার, ১৯শে জুন, ২০১৮ ইং ৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে রুয়েটে ছাত্রলীগেরর দুগ্রুপে সংঘর্ষ : আহত ৮

news-image

পাপন সরকার শুভ্র,রাজশাহী : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আট নেতা আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রুয়েটের হামিদ হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, রুয়েট ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আবিদ হাসান মিতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফি, প্রচার সম্পাদক মাহাথির, ক্রীড়া সম্পাদক রবিন, ছাত্রলীগকর্মী ইমরান ও রাহাত। এদের মধ্যে রাহাত রুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি নাইম রহমান নিবিড়ের অনুসারি আর বাকিরা সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর অনুসারি। সবাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত দশটার পর দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রুয়েটের হামিদ হলে যায় রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। তবে খবর পেয়ে সাধারণ সম্পাদক গ্রপের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। হলে পৌছানোর কিছুক্ষণ পরেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েকটি হাতবোমা ও ককটেল ফাটানো হয়। এসময় হলে থাকা আবাসিক শিক্ষার্থীরা ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন। প্রায় দেড় ঘন্টা চলা ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অবস্থা খারাপের জন্য ৮ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই দুই পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে শোডাউন দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধা নিয়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায়ও তারা রুয়েট ক্যাম্পাসে শোডাউন দেন। এসময় উভয় পক্ষেই প্রচুর স্থানীয় বহিরাগত লোকজন ছিলো বলে রুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন জানিয়েছে। মধ্যরাতে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। তবে কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তাৎক্ষনিকভাবে তা জানা যায়নি।

এর আগে র্যাগ দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৩ জানুয়ারি রাতে সভাপতি গ্রপের নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় সাধারণ সম্পাদক গ্রপের নেতাকর্মীরা। এতে সভাপতি গ্রপের ১১ জন নেতাকর্মী আহত হয়। সেই ঘটনাও রুয়েটের হামিদ হলেই ঘটে। সেই ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক গ্রপের হয়ে নেতৃত্ব দেন আবিদ হাসান মিতুল।

এদিকে এ ঘটনায় হামিদ হলে পুলিশি তল্লাশী চালাচ্ছে মতিহার থানা পুলিশ। শিক্ষার্থীরা আশংকা করছেন রুয়েট বন্ধ হবার ঘোষনা আসতে পারে।

তবে এ ঘটনার বিষয়ে রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড় বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির জায়গা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।

Print Friendly, PDF & Email