মঙ্গলবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শহীদরা ঘুমিয়ে আছেন অনাদর আর অবহেলায়! 

news-image
বিশেষ প্রতিনিধি : মহান মুক্তিযুদ্ধে মা ও মাটিকে রক্ষা করতে যারা নিজের জীবন বির্সজন দিয়ে গিয়েছিলেন এরকম অনেক শহীদ মুক্তি যোদ্ধা আজ চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন অনেকটাই অবহেলা আর অনাদরে।
তাদের স্মৃতিতে নির্মিত স্হাপনা গুলো রয়েছে একেবারেই বেহালদশায়।
এরকম একটি চিএ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৈরতলা গণকবর।
 এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক ও স্মৃতিসৌধে একেবারেই নাজুক। সংশ্লিষ্ট
অধিদপ্তর  প্রয়োজনে লোকবল নিয়োগ করে হলেও শহীদদের মর্যাদা এই গণ কবরটিকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বেহালদশার এই চিএ, জঙ্গলে পরিণত হয়েছে পৈরতলা গণকবরটি । যেখানে-সেখানে পড়ে আছে মাদক সেবনের আলামত। মানুষের মল পড়ে আছে গণকবরের মূলবেদিতে। শহীদদের সমাধিস্থলের শ্বেতপাথরে খোদাই করা নামফলকটিও নিয়ে গেছেন দুর্বৃত্তরা। পৌর এলাকার অন্তর্গত হলেও কোনো সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে কাঁদা মাড়িয়ে দিয়ে যেতে হয় এই গণকবরে।
স্থানীয় বাসিন্দা কুুুুদ্দুস মিয়া বলেন, সরকার গণকবরটি সংরক্ষণে কয়েক বছর আগে উদ্যাগ নেয়। তবে ইটের প্রাচীর নির্মাণের পর সে কাজ আর এগোয়নি। বর্তমানে গণকবরটি মাদকসেবী আর অনৈতিক কর্মকান্ডের
আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে’।
গণকবরে আসার সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বধ্যভূমিটির পবিত্রতা রক্ষা সম্ভব হবে বলেও দাবি তার।

স্হানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিশেষ  দিনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এখানে আসেন। সে সময় একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এরপর আর কেউ কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। গণকবরটি আমাদের গ্রামের গর্বের হলেও অরক্ষিত থাকায় বর্তমানে তা নানা সমস্যার কারন  হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গণকবরের পাশে বসবাস করা কয়েকজন প্রতিবেশিরা বলেন, গণকবরটির সংস্কারে জনপ্রতিনিধিরা বার বার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘আমরা চাই, পৈরতলা গণকবরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লোকবল নিয়োগ করবে সরকার। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো অসম্মানিত হচ্ছে, তা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে। যেসব স্থাপনা অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে আছে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো’।

Print Friendly, PDF & Email