মঙ্গলবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাঞ্ছারামপুরের বালু মহলের কারনে ভাংছে বাঁধ,ফসলি জমি,বাড়িঘরসহ রাস্তাঘাট !

news-image

ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি মেঘনা নদীতে বালুমহালের কারণে এলাকার ভাঙ্গনরক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পরেছে। ফলে এলাকাবাসী বালুমহালের ইজারা না দিতে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে এলাকাবাসী। মরিচাকান্দি মেঘনা নদীতে বালুমহাল ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা নদীর ভাঙনরক্ষা বাঁধ, কৃষি জমি ও বসত বাড়িঘর হুমকির মুখে পরেছে।

এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও (ইউএনও) বালুমহালটি ইজারা না দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন। ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সোনারামপুর ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকায় মেঘনা নদীতে মরিচাকান্দি ও চর মরিচাকান্দি নামে ৫০ একরের একটি বালুমহাল রয়েছে। উপজেলায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের এটিসহ চারটি বালুমহাল ছিল। ২০১৫ সালে এলাকাবাসীর আবেদনে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের কানাইনগর ও মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকার দুটি বালুমহাল ইজারার তালিকা থেকে বাদ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

কিন্তু সোনারামপুর ইউনিয়নের মরিচাকান্দি ও দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের জয়কালীপুর বালুমহাল দুটি এখনো ইজারা দেওয়া হচ্ছে। গত বছরের ১৫ অক্টোবর মরিচাকান্দি বালুমহালটির ইজারা দেওয়া বন্ধ করতে স্থানীয় শান্তিপুর ও কানাইনগর গ্রামের আড়াই শতাধিক মানুষ ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো বসন্ত চাকমা ও সোনারামপুর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করেন।

তদন্ত অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর বালুমহালটি ইজারা না দিতে তৎকালীন ইউএনও মোহাম্মদ শওকত ওসমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে একটি প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বালুমহালটি ইজারা নিয়ে ঠিকাদার শক্তিশালী ড্রেজার ব্যবহার করে মেঘনা নদীর ভাঙনরক্ষা বাঁধের কয়েক শ মিটার দূর থেকে বালু তুলছেন। আর এতে কানাইনগর ও শান্তিপুর গ্রামের কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে, হুমকির মুখে পড়ছে বাঁধ ও বাড়িঘর। বালুমহালটি আবার ইজারা দেওয়া হলে এলাকায় মানুষের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায়ও এ বালুমহাল ইজারা না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও বালুমহাল ইজারা প্রদান কমিটির সভাপতি মো. রেজওয়ানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কোনো বালুমহাল ইজারার তালিকা (ক্যালেন্ডার) থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো চিঠি এসেছে কি না তা তাঁর জানা নেই। নথিপত্র দেখলে হয়তো বলা যাবে।

এব্যাপারে শান্তিপুর গ্রামের কৃষক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, “আমাদের শান্তিপুর ও কানাইনগর গ্রামের পাশে মেঘনা নদীতে রাতদিন ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারণে ইতিমধ্যে নদীর বাঁধ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আরো কিছু বসত বাড়ি, কৃষি জমি সবই ভাঙ্গন দেখা দিব। তাই এলাকাবাসী এই বালুমহালের ইজারা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছে।

এব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “মরিচাকান্দি মৌজা এলাকার বালুমহাল ইজারার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য উপজেলায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠানো হয়েছে। জেলা কমিটি এই প্রস্তাব অনুমোদন করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরই এই ইজারা বাতিল হয়ে যাবে।

 

Print Friendly, PDF & Email