বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এক স্পর্শেই জানা যাবে মুক্তিযুদ্ধের সব তথ্য

news-image

আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করতে ভোলার উপশহর বাংলাবাজারে নির্মিত স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আগামী ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। রাষ্ট্রপতির উদ্বোধনের পরপরই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক। ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ স্বাধীনতা জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছেন।

জাদুঘরটির একদিকে গবেষণাগার, অপরদিকে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে রয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। ভাষা অন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেখতে ও জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম। বাঙালির লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুনসহ বেশ কয়েকজন গবেষকের নিরলস পরিশ্রমে জাদুঘরটি অন্যতম সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। এখানে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনের ৮০ বছরের ইতিহাসের ধারাবাহিক দুর্লভ সংরক্ষণ থাকবে বলে জানা গেছে। থাকছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর জন্য রাখা হচ্ছে থ্রি-ডি মিনি হল রুম। বর্তমানে চলছে যাদুঘরটির শেষ মুহূর্তের কাজ।

বাণিজ্যমন্ত্রীর মায়ের নামে বাংলাবাজারে প্রতিষ্ঠিত ফাতেমা খানম কমপ্লেক্সের ৩ বছর আগে নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাদুঘরটির স্বপ্নদ্রষ্টা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহনায়ক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল জানান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন একটি জাদুঘর নির্মাণের স্বপ্ন ছিল দীর্ঘদিনের। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি ভাষণই জাতিকে আন্দোলিত করেছিল। যা আজ গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

জাদুঘর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব জানান, এখানে তিনটি গ্যালারি রয়েছে। প্রথম তলার গ্যালারিতে এক পাশে ইতিহাস এতিহ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ’৪৭-এ দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের দুর্লভ ছবি ও তথ্য রয়েছে। অপর পাশে রয়েছে লাইব্রেরি ও গবেষণাগার। এছাড়া একই তলায় রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে হলরুম। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ইতিহাসের মুহূর্তগুলোর চিত্রকল্প।

তৃতীয় তলায় রয়েছে যুক্তফন্ট, ’৫৮-এর আন্দোলন, পাকিস্তানের সামরিক শাসন, ’৬৬-এর আন্দোলন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন, ’৭০-এর নির্বাচন, ৭ মার্চের ভাষণ, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের দুর্লভ আলোকচিত্র।

এছাড়া রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সব ভাষণের অডিও ও ভিডিও ডিজিটাল প্রদর্শনী। দর্শনার্থীরা ডিজিটাল টাচস্কিন ব্যবহার করে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও তথ্য জানতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ভোলার বাংলাবাজার এলাকাটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বহন করে চলছে। ১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাবাজারে তিনদিক থেকে পাকবাহিনী হামলা চালায়। তাই ওই এলাকায় স্থাপিত হয়েছে এমন জাদুঘর।

Print Friendly, PDF & Email