মঙ্গলবার, ১৯শে জুন, ২০১৮ ইং ৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নামাজ না পড়লে ১৫টি আজাব ভোগ করতে হবে!

news-image

ইসলাম ধর্ম ডেস্ক : পবিত্র কোরআনে বহু আয়াতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মহান রাব্বুল আলামিন বান্দাদের থেকে নামাজের হিসাব নেবেন। নামাজ যেহেতু প্রত্যেক আকেল, বালেগ, সুস্থ ও মোমেন ব্যক্তির জন্য অবশ্যই করণীয় আমল। তাই ছোটবেলা থেকে নামাজ আদায় করা হলে, নামাজিদের পরিবেশ দেখলে ও তাদের সঙ্গে উঠাবসা করলে নামাজ পড়ার একটা অভ্যাস গড়ে ওঠে।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, নামাজ আদায় করে আমি যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তোমার ওপর অবতীর্ণ কিতাব এবং তোমার আগে যেসব কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে সেসবের ওপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে। আর আখেরাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে। এসব লোক তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সঠিক পথে রয়েছে এবং তারাই সফলতা লাভ করবে। (সূরা বাকারা : ৩-৫)।

যারা নামাজ পড়েনা তাদের জন্য মহান আল্লাহ্ পাক ১৫টি আজাব নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।এই ১৫টি আজাবের মধ্যে ৬টি দুনিয়ায়, ৩টি মৃত্যুর সময়, ৩টি কবরের মধ্যে এবং বাকি ৩টি হাশরের মধ্যে দেয়া হইবে।

দুনিয়াতে যে ৬টি আজাব দেয়া হয় :
১. তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত পাবেনা।
২. আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠিয়ে নেবেন।
৩. যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তার ছওয়াব পাবেনা।
৪. তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল হবে না।
৫. আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবে।
৬. ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ হতে বঞ্চিত করা হবে।

মৃত্যুর সময় যে তিনটি আজাব দেয়া হয় :
১. অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করবে।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে।
৩. মৃত্যুকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে,তার ইচ্ছা হবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলতে।

কবরের মধ্যে যে তিনটি আজাব দেয়া হয় :
১. তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাবে।
২. তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন জ্বালিয়ে রাখা হবে।
৩. আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে,দুনিয়ায় কেন নামাজ পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত, জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত এবংএশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে।

আর বাকি তিনটি দেয়া হবে রোজ হাসরের দিন কিয়ামতের ময়দানে।

আমাদের মধ্যে যারা মুসলিম আছে আসুন ভাই আমরা সকল ভাই ও বোনেরা নিয়মিত এবং সময়মত নামাজ পড়ি, অপর ভাইদের ও বলি নামাজ পড়ার জন্য। তাহলেই একমাত্র আমাদের সমাজ এ প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি আসবে।

Print Friendly, PDF & Email